শিক্ষক থাকাকালে বড়বোনকে, চেয়ারম্যান হয়ে ছোটবোনকে ধর্ষণ

পাবনায় বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবু হামিদ মোহাইম্মী হোসেন চঞ্চল। তিনি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

১০ বছর আগে চেয়ারম্যান চঞ্চল একটি হাইস্কুলের শিক্ষক থাকাকালীন ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে একটি বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর অসুস্থ হয়ে ওইদিনই হাসপাতালে মারা যান ওই ছাত্রী। সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া ডায়েরিতে এসবের প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রীর বোন।

এ ঘটনায় বোনকে ধর্ষণ এবং হত্যার জন্য চেয়ারম্যানকে দায়ী করে বিচার চেয়ে গত ২১ জুন পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছেন ওই ছাত্রী। এমনকি একই কৌশলে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ তার।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, ২০১০ সালে আবু হামিদ মোহাইম্মী হোসেন চঞ্চল দেবোত্তর ইউনিয়নের ইশারত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন তার বড়বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে বিয়ের কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত এক বাড়িতে তাকে ধর্ষণ করেন। সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার নামে চঞ্চল ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। তাদের পরিবারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি তার বড়বোনের মতো তাকেও একই কৌশলে পাবনা শহরে একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন চেয়ারম্যান চঞ্চল। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন।

এদিকে চেয়ারম্যান চঞ্চল বিয়ে না করেই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে ঘটনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তাকে ও তার পরিবারকে চেয়ারম্যান ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানান, চেয়ারম্যান তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। তাকে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর একটি ডায়েরি খুঁজে পায় তার পরিবার। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তারিখে নিহত ছাত্রীর ডায়েরিতে চেয়ারম্যান চঞ্চল লিখেছেন, ‘(ছাত্রীর নাম) তুমি সুখে আছো, কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন চোখের পানি অসহ্য যন্ত্রণা তাছাড়া আর কি রেখে গেলে আমার জন্য?…আমাকে এভাবে নিঃস্ব করে চলে যাবে কোনোদিন কল্পনাও করতে পারি নাই। আমার জীবনের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করে দিয়ে চলে গেলে।…এর মধ্যে কি আমিও দায়ী?…’

এই ডায়েরি পড়ে ওই ছাত্রীর জানতে পারেন তার বড়বোন চঞ্চলের প্রতারণার শিকার হয়ে অকালে মারা যান। এ পরিস্থিতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ছাত্রী (অভিযোগকারী) তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চল। পারিবারিক কলহের কারণে সম্প্রতি তিনি তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলে জানান। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে তার ডিভোর্সি স্ত্রীকে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. স্নিগ্ধ আক্তার জানান, পাবনা পুলিশ সুপারে কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খাঁনের নির্দেশে সে অভিযোগের তদন্তকাজ চলছে।

তবে তদন্তাধীন বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে তদন্ত কাজে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। (জাগো নিউজ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *