নওয়াপাড়ায় রিজিয়া হাসপাতালে নবজাতক ‘উধাও’: নেপথ্যে কি ভয়ংকর শিশুবিক্রি সিন্ডিকেট

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

অভয়নগর উপজেলার নোয়াপাড়া রিজিয়া(প্রাঃ) হাসপাতালে জন্ম নিল সুস্থ সন্তান। রেজিস্টারেও নাম উঠল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হতেই সেই সন্তানকে মৃত দাবি করল কর্তৃপক্ষ। নেই কোনো ডেথ সার্টিফিকেট, নেই মরদেহের হদিস। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এখন টক অফ দ্য টাউন। অভিযোগ উঠেছে, এক লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রি করে দিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

গত ২৯ জানুয়ারি প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের কেফায়েত নগর মাঠপাড়া গ্রামের মারুফা খাতুন (৩৬)। হাসপাতালের ভর্তি খাতা অনুযায়ী (সিরিয়াল নং ১৯৯২), ওই দিনই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। অপারেশনের পর মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের যোগসাজশে রহিমা বেগম ও রতনা নামের দুই নারী অত্যন্ত চতুরতার সাথে শিশুটিকে মারুফার কোল থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর একটি প্রাইভেটকারে করে শিশুটিকে দ্রুত ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, শিশুবিক্রি চক্রের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশুটিকে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই হাসপাতাল জুড়ে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে বাচ্চাটি মারা গেছে। কিন্তু পরিবার যখন সন্তানের মরদেহ বা মৃত্যুর প্রমাণপত্র চায়, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কোনো ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই একটি শিশু হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইয়ুব আলী দায়সারা বক্তব্যে বলেন:”বাচ্চা ও মা দুজনেই সুস্থ ছিল। আমি কোনো ছাড়পত্র দেইনি। কীভাবে হাসপাতাল থেকে শিশুটি চলে গেল, তা আমার জানা নেই।”স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বড় সিন্ডিকেটের কাজ। এর আগেও এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশি তদন্তে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে এই শিশুবিক্রি চক্রের রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *