মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নির্বাচনী ময়দানের চিরচেনা বৈরিতা আর কাদা ছোড়াছুড়ি ছাপিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির দেখল যশোরের অভয়নগর। ব্যালট যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সৌজন্য সাক্ষাতে ফারাজী মতিয়ার রহমানের নিজ বাসভবনে সশরীরে হাজির হন অধ্যাপক গোলাম রসুল।
পরাজিত প্রার্থীর দুয়ারে বিজয়ী প্রার্থীর এই আগমনকে স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা দুই নেতার মধ্যে কুশল বিনিময় ও দীর্ঘক্ষণ সৌজন্য আলাপচারিতার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতা প্রকাশ পায়। ড্রয়িংরুমে বসে চা-চক্রে অংশ নিয়ে তারা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, এই মিলনমেলা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এবং অত্যন্ত সম্মানজনক।
“রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই থাকবেই, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ আর শিষ্টাচারই আমাদের প্রকৃত পরিচয়। অভয়নগর আজ সেই বার্তাই দিল।” উপস্থিত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মীর এটি একটি মাইলফলক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাপক গোলাম রসুল ও ফারাজী মতিয়ার রহমানের এই পদক্ষেপ তিনটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়: সংঘাতের অবসান: শীর্ষ দুই নেতার এই হৃদ্যতা তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধে বড় ভূমিকা রাখবে। আস্থার পরিবেশ: সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মান ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নমুখী রাজনীতি: দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ কাজ করার পথ প্রশস্ত হবে।অভয়নগরের এই ‘পলিটিক্যাল বিউটি’ বা রাজনৈতিক সৌন্দর্য এখন সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দুই নেতার করমর্দন আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
