লোন দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই মাহমুদা গ্রেপ্তার


মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার:
স্বল্প সুদে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাহমুদা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে ও তার ছেলে তন্ময় জামানকে আটক করা হয়। মামলার বাদী যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বানিয়ালি গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আব্দুস সোবহান।

এজাহারে জানা যায়, মাহমুদা খাতুন আগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি ‘মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শর্ত হিসেবে তিনি মাত্র ২ শতাংশ লভ্যাংশ এবং ১০-১২ বছরে লোন পরিশোধের টোপ দেন।২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে যশোর শহরের চৌরাস্তার একটি শোরুমে বসে তিনি ৩২ জনের কাছ থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।এছাড়া প্রত্যেকের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ৩-৪টি করে ফাঁকা (ব্ল্যাঙ্ক) চেক হাতিয়ে নেন তিনি। লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও টাকা নেওয়ার পর তিনি ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন এবং গা ঢাকা দেন।

শনিবার সকালে যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় মাহমুদাকে দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চান। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে ও তার ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত ভুক্তভোগী থানায় ভিড় করেন এবং তাদের সাথে হওয়া প্রতারণার অভিযোগ জানান।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।উপ-পরিদর্শক আশরাফুল আলমকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *