কুয়াশার চাদরে ঢাকা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যরকম রূপ

কুবি প্রতিনিধি: হারেছ আহমেদ

“শীতের সকালে কুয়াশা যখন নামতে থাকে, মনে হয় প্রকৃতি নিজের হৃদয় খুলে দিয়েছে।”

শীতের আগমন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই এক আলাদা আবহ তৈরি করে অর্থাৎ শীত আসার পূর্বেই‌ যেন শুরু হয় শীতের আনাগোনা। কুয়াশায় মোড়া ভোর, নীরব পথ, শিশিরভেজা ঘাস সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়া রোড, প্রতিটি গলি এসময় শীতের সময় নিজস্ব সৌন্দর্য আরও বেশি স্পষ্ট, আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

ভোরবেলা ক্যাম্পাসে ঢুকতেই চোখে পড়ে কুয়াশার পর্দায় ঢাকা সেই পরিচিত প্রধান ফটক। সারিসারি গাছের ডগায় ঝুলে থাকা শিশিরবিন্দু আলোয় ঝলমল করে। শীতের নরম সূর্য কুয়াশা ভেদ করে ওঠার চেষ্টা করলেও প্রকৃতি তখনও আধোঘুমে। পাখির ডাক, মামার দোকান থেকে ভেসে আসা চায়ের ধোঁয়া, আর ধীর পদক্ষেপে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীরা সকালের পরিবেশটিকে আরও কাব্যিক করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও সেন্টার ফিল্ডে শীতের সকাল যেন অন্য এক বাস্তবতা—কুয়াশার পাতলা চাদরে ঢেকে থাকা সেই দৃশ্য দেখে মনে হয় এখানে সময়ও ধীরে হাঁটে। ক্যাম্পাসের এই শান্ত নীরবতা দিনের কর্ম ব্যস্ততার আগে মনকে প্রস্তুত করে দেয়। পাহাড়ের উপর স্থাপিত আইন ও প্রকৌশল অনুষদের সামনে দাঁড়িয়ে দেখলে মনে হয় যেন সাদা মেঘে আঁকা এক নিস্তরঙ্গ শিল্পকর্ম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আগমন, ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি সবই যেন একটু ধীর, কিন্তু সুন্দর। লাইব্রেরিতেও শীতকালে ভিড় বেড়ে যায়। অনেকেই উষ্ণ পোশাক গায়ে দিয়ে গবেষণা বা গ্রুপ স্টাডিতে সময় কাটায়। ক্যাফেটেরিয়ার ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ তখন প্রায় সবারই ভরসা।

শীত এলেই ক্যাম্পাসের ক্লাব-সংগঠনগুলোর কার্যক্রম যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগঠনগুলো মানবিক সাহায্য কার্যক্রম শীতবস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে শীতের পরিবেশকে উষ্ণ করে, শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনও হয়ে ওঠে দৃঢ়তর।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল মালেকের মন্তব্যে ক্যাম্পাসে শীতের এই আগমনচিত্র আরও স্পষ্ট হয়, “শীত এলে ক্যাম্পাস যেন নতুন করে সাজে। ভোরের সেই নীরবতা আর বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা এসবই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকে অনন্য করে তোলে।”

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার ঝিলিক বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রিয় পাহারতলি রোডে রং চা হাতে বসে যখন কুয়াশায় মোড়া লালন চত্বর আর পাহাড় চোখে পড়ে সাথে শীতল বাতাস অনুভব হয় , তখনই শীতের অনুভূতি যেন নতুন রঙে হৃদয়ে ধরা দেয়।”

শীতের আগমন শুধুই ঋতু পরিবর্তনের বার্তা নয়; এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে জাগিয়ে দেয় নতুন অনুভূতি, নতুন উদ্যম এবং নতুন কর্মপ্রেরণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *