অভয়নগরে সারের ‘মরণফাঁদ’: নষ্ট সরকারি সার নতুনের নামে বিক্রির ছক ফাঁস

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার

মাঠের পর মাঠ ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সরকারি ডিএপি সার। কিন্তু উদ্দেশ্য কৃষকের সেবা নয়, বরং এক ভয়ংকর জালিয়াতি। যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদের তীরে রোদে শুকানো হচ্ছিল কয়েক টন নষ্ট সার, যা পরে মেশিনে গুঁড়ো করে নতুন মোড়কে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে প্রশাসনের এক ঝটিকা অভিযানে নস্যাৎ হয়ে গেছে এই প্রতারণার নীল নকশা।সাধারণত সরকারি বরাদ্দের সার দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকলে তা দলা পাকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ ট্রেডার্স লিমিটেড’ এই অকেজো সারগুলোকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটতে চেয়েছিল। তাদের প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:শুকানো ও গুঁড়ো করা: জমাট বাঁধা নষ্ট সার রোদে শুকিয়ে মেশিনের সাহায্যে মিহি গুঁড়ো করা।নতুন ব্র্যান্ডিং: এসব গুঁড়ো সারকে তাজা সারের মোড়কে ভরে বাজারে সরবরাহ করা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে যা উঠে আসে:প্রায় ১ হাজার ৫৯৬ বস্তা (৫৯ টন প্রায়) নষ্ট সার।অপরাধ স্বীকার করায় ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুনসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই জালিয়াতি কেবল আর্থিক প্রতারণা নয়, এটি ‘জমির বিষ’। নষ্ট সারের রাসায়নিক গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় তা জমিতে দিলে ফসলের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। এতে কৃষকের কষ্টের ফসল যেমন নষ্ট হবে, তেমনি মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *