আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ, যবিপ্রবি উপাচার্যকে মূলা উপহার শিক্ষার্থীদের

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: ইমরান হোসেন

আবাসিক হলের নিরাপত্তা, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা, ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি ও পরিকল্পিত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রতীকীভাবে ‘মুলা’ উপহার দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পার্থ সারথী দাসের হাতে প্রতীকী মূলা তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রতীকীভাবে মূলা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে সিসি ক্যামেরার ঘাটতির কারণে নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। প্রায় ছয় মাস ধরে রাস্তা সংস্কারের নামে বারবার কাজ শুরু ও বন্ধ করা হলেও এখনো তা সম্পূর্ণ হয়নি। বাকি অংশ সংস্কারে প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

একই সঙ্গে মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। বন্ধের দিনগুলোতে সেবা বন্ধ থাকে এবং চিকিৎসাকে হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া দেড় বছর দায়িত্বে থেকেও প্রশাসন ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে হল ও একাডেমিক ভবনসমূহে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও নেই।

এসময় যবিপ্রবির শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান ইমরান বলেন, “উপাচার্য স্যারের যোগদানের দেড় বছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি বাস্তবায়নের বদলে তিনি কেবল আশ্বাস দিয়ে গেছেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আবাসিক হলে চুরি, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, চিকিৎসা সেবায় বিলম্ব এবং সংস্কারের নামে হয়রানি চলছে।”

আরেক শিক্ষার্থী সামিউল আলিম সামি বলেন, “শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বারবার তুলে ধরলেও উপাচার্য শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিবাদ জানাতে আমরা প্রতীকীভাবে মুলা উপহার দিয়েছি।”

মুলা গ্রহনের ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্থ সারথী দাস সাংবাদিকদের সাথে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *