ইতিহাসে প্রথমবার: ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন যশোর কারাগারের ১২৯ বন্দি

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তৈরি হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এই কারাগারের ১২৯ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গত ৩১ ডিসেম্বর এই লক্ষ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ।নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও বন্দিদের আগ্রহ কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, শুরুতে এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতাও পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক বন্দির কাছে প্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) না থাকা এবং অনেকের খুব দ্রুত জামিনে মুক্তির সম্ভাবনা থাকায় তারা নিবন্ধনে আগ্রহী হননি। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ১২৯ জন বন্দি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের আবেদন সম্পন্ন করেছেন।

ভোটদানের পদ্ধতি কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে পোস্টাল ব্যালট আসার পর বন্দিরা কারাগারের অভ্যন্তরেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রার্থীদের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতে প্রতিটি ভোটারের হাতে একটি করে বিশেষ ‘বুকলেট’ তুলে দেওয়া হবে, যেখানে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ থাকবে।ভোট প্রদানের পর বন্দিরা তাদের ব্যালট পেপারটি যথাযথভাবে সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের মাধ্যমে এই ব্যালটগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবে।জামিনপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত কোনো বন্দি যদি ভোটের তারিখের আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে যান, তবে তাকে অবশ্যই ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দিনে কারাগারে আসতে হবে। যেহেতু তার ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কারাগারের অধীনে হয়েছে, তাই কারাগারেই তার ভোটাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
প্রশাসনের বক্তব্য যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আশেক হাসান এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন,”বন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি বড় সাফল্য। এটি তাদের নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অনন্য উদাহরণ। এই প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *