ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণা অনুষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের তার ও ৫০টি চেয়ার উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রতিকার চেয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইবি শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদ হাসান।
অভিযোগপত্র সূত্রে, মো. ফুয়াদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছে। গতকাল (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সম্মুখে দেশ সংস্কারের অংশ হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি প্রচারণার আয়োজন করা হয় যেখানে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গতকাল জুম্মার নামাজের পরপর মঞ্চ ডেকোরেশনের পর হঠাৎ করেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে অনুষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের তার ও ৫০টি চেয়ার উধাও হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বিদ্যুতের তার ও চেয়ার পাওয়া না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রচারণা অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিতে হয়।
সংগঠনটির দাবি— পরবর্তীতে, কাজে নিয়োজিত আজিজ ডেকোরেটরের কর্মচারী ও অন্যান্যদের সাথে কথা বলে জানতে পারি সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্টরুমে হারিয়ে যাওয়া মালামালের সদৃশ মালামাল তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের সহযোদ্ধারা সাদ্দাম হোসেন হলে যেয়ে এই তথ্যের সত্যতা পায়। এই যে প্রোগ্রামস্থল থেকে বৈদ্যুতিক তার সরানো হয়েছে, এটা কি আসলে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন ঘটনা নাকি চুরি সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরের অনুষ্ঠানস্থলের কোন জিনিস কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে না আনলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের গেস্টরুমে চলে আসা সম্ভব না। এই ঘটনার কারণে আমরা আমাদের প্রোগাম সময় মতো শুরু করতে পারিনি, প্রায় দুই ঘণ্টা পর শুরু করতে হয়েছে। উপরন্তু, যেরকম সুশৃঙ্খল ও উৎসবমূখর ভাবে প্রোগ্রাম হওয়ার কথা ছিল, সময়ের স্বল্পতায় আমরা সেটাও পরিকল্পনামাফিক করতে পারিনি। আমি মনে করি, জাতীয় গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষের প্রচারণা ভেস্তে দিতেই কেউ সুপরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে আমরা কিছুটা আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছি।
অনুষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার ও চেয়ার নিয়ে আটকে রেখে যে বা যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষের প্রচারণা পণ্ড করতে চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে বিচার দাবি করছে সংগঠনটি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘অফিসে আবেদন পত্র দিয়েছে বলে এক শিক্ষার্থী জানিয়েছে। আমি এখনও দেখিনি। দেখে জানাতে পারবো।’
