এ্যাবের কমিটিতে বাকৃবি উপাচার্যসহ অন্যান্য শিক্ষকের সদস্যপদ

বাকৃবি প্রতিনিধি,

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পেশাজীবী সংগঠন ‘এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (এ্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ কয়েকজন শিক্ষকের নাম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দলীয় পদের প্রকাশ্য অবস্থানকে কেন্দ্র করে শিক্ষকসহ বিভিন্ন সচেতন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা বিদ্যমান আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির আলোকে কীভাবে দেখা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির নাম এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে কিংবা কোনোভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশে বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে পারবেন না।’

তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপাচার্যরা সরাসরি সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞার আওতায় পড়েন কি না- এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) অনুযায়ী- দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কিছুটা সুযোগ হয়ত থাকলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন কোনো সুযোগ নেই।

এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহমদ খায়রুল হাসান। পদ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ্যাব কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন।’

এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকার বিষয়ে বাকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ্যাব এই কেন্দ্রীয় কমিটি করেছে। এটি তাদের মূল কোনো কমিটি না। এ্যাব একটি সম্পূর্ণ পেশাজীবি সংগঠন। এখানে ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও আছেন। রাজনৈতিক সংগঠন বা অঙ্গসংগঠন হলে তাদের এখানে যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ ই ছিলো না।’

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এ্যাবের কমিটিতে নিজের নাম থাকার বিষয়ে  অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আগে এ্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে এর কার্যক্রমের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই। এ্যাব কর্তৃপক্ষ আমার নাম দিয়েছে, তবে এ বিষয়ে আমার সঙ্গে সেভাবে আলোচনা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন একটি সরকারি দায়িত্বে আছি। এই অবস্থান থেকে এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং আমি থাকবও না। বিষয়টি আমি তাদের জানিয়ে দেব।’

এদিকে এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, ‘এ্যাব একটি পেশাজীবী রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ জাতীয়তাবাদী চেতনার কৃষিবিদরা যুক্ত আছেন। নির্বাচন মনিটরিং কার্যক্রমে আমরা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি চাকরিজীবী নন। তাই তাঁরা এই কমিটিতে থাকতে পারেন। সদস্যদের পূর্ববর্তী পদ ও কার্যক্রমের ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষকদের উপদেষ্টা পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *