‎কুবিতে অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত




‎কুবি প্রতিনিধি :


‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুইজন কর্মকর্তার সম্মানে বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নং কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর ড. মো. আবদুল হাকিম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।


‎বিদায়প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।


‎বিদায়ী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “২০০৯ সালের ২৫ জুন যোগদানের আগেই তৎকালীন উপাচার্য প্রয়াত মাওলা স্যারের আহ্বানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। শুরুতে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অর্থ ও হিসাব, রেজিস্ট্রার এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করেছি। দায়িত্ব পালনের সময় নানা চাপ, সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কাজ চালিয়ে গিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স অনুমোদন এবং পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। দায়িত্ব পালনে আমি সবসময় ন্যায়নীতি, সততা ও আর্থিক বিধি মেনেই কাজ করেছি। আমার আচরণে কারও মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করবেন। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’


‎কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘এই আয়োজন কেবল বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর সময়গুলোতে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যেখানে প্রথম দিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত প্রাণশক্তি হলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কেবল অফিসকেন্দ্রিক সম্পর্কের কারণে পারিবারিক বন্ধনের যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা আমাদের অনুভব করতে হবে। পদ ক্ষণস্থায়ী হলেও নৈতিকতা, আমানতদারিতা ও কর্মদক্ষতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। পরিশেষে সকলের সুস্থতা কামনা করছি।’

‎উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘এই আয়োজন দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কর্মজীবনে কী পেলাম তার চেয়ে কী দিতে পেরেছি সেটাই প্রকৃত কর্মসন্তুষ্টির বিষয়। দীর্ঘ পথচলায় নানা বঞ্চনা থাকলেও সেগুলোকে শক্তিতে রূপান্তর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর পথ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব। সবসময় পজিটিভ চিন্তা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বিদায়ী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অবসর জীবনেকে নতুন অধ্যায় মনে করে তিনি সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সকলের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবনের প্রত্যাশা করি ‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *