মেহেদি হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে নিয়োগ পাওয়া দুই গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে ১৭ থেকে ২১ বছর কমিয়ে জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের যোগসাজশে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া দুই গ্রাম পুলিশ হলেন রফিকুল ইসলাম ও মকবুল হোসেন। তাদের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যের সাথে নিয়োগপত্রের তথ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য পাওয়া গেছে:রফিকুল ইসলাম: ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে। কিন্তু নিয়োগপত্রে জালিয়াতি করে তার জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৬। অর্থাৎ কাগজপত্রে তিনি নিজেকে ১৭ বছর কম বয়সী দেখিয়েছেন।মকবুল হোসেন: তার ভোটার আইডি কার্ডে জন্মতারিখ ১২ জুন ১৯৬৩। অথচ নিয়োগ পেতে তিনি যে সনদ ব্যবহার করেছেন সেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০ অক্টোবর ১৯৮৪। এক্ষেত্রে তিনি বয়স কমিয়েছেন প্রায় ২১ বছর!
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়োগের পেছনে ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান ও ইউপি সচিব ইবাদত হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পেতে তারা তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বড় অঙ্কের ঘুষ প্রদান করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল হওয়ায় এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।জালিয়াতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত রফিকুল ও মকবুল দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব যেভাবে কাগজপত্র জমা দিতে বলেছিলেন, আমরা সেভাবেই দিয়েছি। ভেতরের কারসাজি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।”এদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।সাধারণ জনগণের দাবি, কেবল পাশাপোল ইউনিয়ন নয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চৌগাছা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে যে অনিয়ম হয়েছে, তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। জাল সনদধারীদের অবিলম্বে বরখাস্ত করে তাদের ভোগ করা সরকারি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
