জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাপক সাড়া, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
দিনব্যাপী আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। সংগৃহীত রক্ত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে থাকা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রতি ২–৪ সপ্তাহ অন্তর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের আয়োজন রোগীদের জরুরি রক্তের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রিপোর্ট
রক্তদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার—হেপাটাইটিস বি, অ্যান্টি-HBcAb, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া—বিনামূল্যে স্ক্রিনিং করা হয়। পরীক্ষার অফিসিয়াল রিপোর্ট ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দাতাদের ইমেইলে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্মারক উপহারও প্রদান করা হয়।
সচেতনতামূলক কার্যক্রম
রক্তদানের পাশাপাশি দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিবাহ-পূর্ব স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দেশে আনুমানিক প্রতি ৯ জনে ১ জন থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ায় তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে আয়োজকরা জানান।
সন্তুষ্টি প্রকাশ ও সহযোগিতার আশ্বাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন কর্মসূচি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
জকসু সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম কর্মসূচিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আশ্বাস দেন।
আয়োজকের বক্তব্য
স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির প্রধান আয়োজক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী পিউস সাহা, যিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এটিই প্রথম ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন। শুরুতে কিছু সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার-নার্স প্যানেলের সহযোগিতায় সফলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থীর হিমোগ্লোবিন কম থাকায় তাদের রক্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ দাতা ছিলেন নারী শিক্ষার্থী এবং অনেকেই প্রথমবার রক্তদান করেছেন। প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে আগামী মাসে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক একটি বৃহৎ সচেতনতামূলক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন সকল রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আয়োজকদের মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি থ্যালাসেমিয়া-মুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *