মোঃ তাহমিদুর রহমান, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও সাভার অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ জিয়াউর রহমান কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই এলাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কর্মশালায় নির্বাচন রিপোর্টিংয়ের খুঁটিনাটি বিষয়, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল, নির্বাচন আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন প্রতিবেদন তৈরিতে নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুন বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। এ সময়ে বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও দক্ষ সাংবাদিকতা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জপূর্ণ হওয়ায় সাংবাদিকদের জন্য আইন, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তিনি এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।
পিআইবির সহকারী সম্পাদক শায়লা আক্তার বলেন, এটি আমাদের সরকারি প্রচারণার একটি অংশ। নির্বাচন যেহেতু সন্নিকটে, তাই সাংবাদিকদের সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টিংয়ের আগে ও পরে সাংবাদিকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে তারা কতটা প্রস্তুত— সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা চাই সাংবাদিকরা সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রচার করুন, যেন কোনো তথ্য গুজবে পরিণত না হয়। সে লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।’
কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা কতটা ছাত্র আর কতটা সাংবাদিক— তা আলাদা করে চিহ্নিত করা সত্যিই কঠিন। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন আন্দোলনগুলো নানা ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে সামনে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অনেক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমার পাশে যিনি বসে আছেন জাবিসাসের সভাপতি মেহেদী মামুন, তাঁর শরীরে এখনো স্প্লিন্টার রয়ে গেছে। এমন একটি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি আপনারা যাদের নিয়ে এই কর্মশালা করছেন, তারা সত্যিই এর যোগ্য। সামান্য প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ যদি এই তারুণ্য ও অদম্য শক্তির সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে এই অঞ্চলের প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেশবাসী অবশ্যই পাবে এই নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি।
……
