নতুন বছরে নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

ইবি প্রতিনিধি : মো এমদাদুল হক

বিদায়ী বছরের হতাশা ও বঞ্চনাকে উপেক্ষা করে পূর্ণতা-অপূর্ণতার হিসাব খসতে খসতে মনকে প্রফুল্ল করে তোলে নতুন বছরের আগমনী বার্তা। ক্যালেন্ডারের নতুন পাতা উল্টিয়ে একসঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন দিনের আগমন, নতুন করে গন্তব্য, নতুন করে সাজানো স্বপ্ন। অতীতকে স্মৃতির চাদরে মুড়িয়ে নতুন সময়কে বরণ করে নেওয়ার অনুভূতি যেন একটু আলাদা। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর অপূর্ণতার ভার ২০২৫ সালের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ২৫ সালের সকল অপূর্ণতা ২০২৬ সালে পূর্ণতা পাক সেই প্রত্যাশা রাখে ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে নতুন বছর আগমনে নারীরা কী ভাবছে? তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি।

আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান; যা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরও সুপরিকল্পিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাঠদানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ করা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আসন, আধুনিক গ্রন্থ, গবেষণা জার্নাল এবং দীর্ঘ সময় অধ্যয়নের সুব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
নদীয়া খাতুন
বিভাগ: ব্যবস্থাপনা
শিক্ষাবর্ষ: ২০২২-২৩

ক্যাম্পাসকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে

জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী বছর হিসেবে ২০২৫ সাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক বছর হয়ে উঠতে পারত। অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবকিছু সীমাবদ্ধ থেকেছে কেবল সম্ভাবনার গণ্ডিতে। যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের রূপান্তরিত করছে, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখনও গতানুগতিক নিয়মনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। ২০২৫ সাল অতিক্রম করে ২০২৬ সালের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েও এখানে আধুনিকায়নের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন চোখে পড়ে না। ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা—সহপাঠী সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না ঘটিয়ে প্রশাসন আমাদের গভীর হতাশা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে।
সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে, আশানুরূপ উন্নয়নের স্বপ্ন থাকলেও বছরশেষে তার প্রতিফলন প্রত্যাশার তুলনায় ছিল হতাশাজনক; বাস্তবতার চেয়ে তা রয়ে গেছে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার মধ্যেই আবদ্ধ। সবকিছুর পরও নতুন বছর আমাদের জন্য বয়ে আনুক নতুন আলো, নতুন প্রত্যয় ও নতুন সম্ভাবনা। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ।প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব পেরিয়ে নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর।
নার্গিস পারভীন
বিভাগ: ফার্মেসি
শিক্ষাবর্ষ: ২০২১-২২

ক্যাম্পাস হবে রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত

ক্যাম্পাস থেকে আমরা চাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়। প্রত্যাশা করি—ক্যাম্পাস হবে রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত, যেখানে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে শান্ত ও নিরাপদ। শিক্ষকরা হবেন আরও শিক্ষার্থী–বান্ধব, গবেষণামুখী এবং নৈতিকতায় অনুকরণীয়। ক্লাস, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা হবে আধুনিক ও কার্যকর।
আমরা চাই ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন ও দায়িত্বশীল। সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়ুক। হল ও আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
মাহফুজা আক্তার মনি
বিভাগ: সমাজকল্যাণ
শিক্ষাবর্ষ: ২০২২-২৩

সনদের পেঁছনে না ছুটে প্রকৃত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হই

২০২৫-এর শেষ পাতা ঝরে পড়তেই আমরা পা রেখেছি ২০২৬-এর নতুন ভোরে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে কুয়াশার মধ্যে উঠে আসা প্রথম সূর্য যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা বয়ে এনেছে। ২০২৬-এ আমার প্রধান চাওয়া—গবেষণামুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, যাতে আমরা সনদের পেঁছনে না ছুটে প্রকৃত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হই এবং বিশ্বমঞ্চের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি।
শ্রাবণী আক্তার
বিভাগ: ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
শিক্ষাবর্ষ: ২০২১-২২

নতুন বছর মানে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া

নতুন বছর মানে— সবকিছু একটু অন্যরকম বা নতুন করে চিন্তা করা। একটা বছর শেষে হতাশাগুলোকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমেই চাই— পড়াশোনাটা আরও ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়া, ফলাফলে মনোনিবেশ করা।সবমিলিয়ে আমার কাছে নতুন বছর মানে নিজেকে আরেকটু বেশি গুছিয়ে পরিপাটি করা, দায়িত্বশীল হওয়া এবং পরিশ্রমী হওয়া।
সৃষ্টি পাল
বিভাগ: ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
শিক্ষাবর্ষ: ২০২২-২৩

স্বপ্ন দেখার মতো শিক্ষার ভিত মজবুত করা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কোনো জটিল বা অসম্ভব কিছু নয়। আমরা চাই শুধু কয়েকটি মৌলিক বিষয়— নিয়মিত ও সময়োচিত ক্লাস, মানসম্মত শিক্ষা এবং ন্যায্য, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উন্মুক্ত যোগাযোগ।সেশনজটমুক্ত কার্যক্রম এবং দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা, যা আমাদের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করবে। এই সাধারণ দাবিগুলো পূরণ হলে নতুন বছর আমাদের জন্য সত্যিই সার্থক হবে। আমরা তখনই স্বপ্ন দেখতে পারব বড় করে, যখন শিক্ষার ভিত মজবুত হবে।
তানিশা আমরিন
বিভাগ: ফলিত খাদ্য ও পুষ্টি প্রযুক্তি
শিক্ষাবর্ষ: ২০২৩-২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *