নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যার বিচার চাই: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে যশোরে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই যশোরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্র-জনতা। শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত রায়ের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে যশোর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি থেকে এই হুঁশিয়ারি আসে।শহরের মণিহার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে ছিল ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করো’—এমন সব তীব্র স্লোগান। মিছিলটি চাঁচড়া চেকপোস্টে গিয়ে একটি বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।বক্তাদের ভাষ্য: “নেপথ্যের কারিগররা এখনো অধরা”
সমাবেশে ছাত্র নেতারা অভিযোগ করেন যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।

বক্তারা বলেন:”হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং এর নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনের আগেই এই বিচার সম্পন্ন করতে হবে।”বিচার দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো বিদেশি শক্তির ‘প্রেসক্রিপশন’ বরদাশত করা হবে না। নাম উল্লেখ করে তারা বলেন, যারা ভিনদেশের ইশারায় রাজনীতি করতে চায়, তাদের জায়গা এই দেশের মাটিতে হবে না।বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে ছিলেন:শাহেদ মোহাম্মদ রিজভী (আহ্বায়ক),বিএম আকাশ (সদস্য সচিব),সাইদ সান (মুখপাত্র),এস কে সুজন (যুগ্ম আহ্বায়ক)।সমাবেশের শেষে ঘোষণা করা হয় যে, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সারা জেলায় অচল অবস্থা তৈরি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *