নোবিপ্রবিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, নোবিপ্রবি’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী ও একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধক মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।

শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। এছাড়াও বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শিক্ষার প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার আগ্রহের কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের যাত্রা শুরু হয় এবং তাঁর হাত ধরেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। নকলমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, কারিগরী শিক্ষার যাত্রা এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকে তার অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অর্থনীতিতে ভ্যাটের প্রচলন, মুক্তবাজার অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখেছেন।

এ সময় উপাচার্য আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধু থেকে হয়েছেন রাজপথের কাণ্ডারী। দেশকে বিদেশিদের কাছে তিনি কখনোই বিক্রি করেননি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ফ্যাসিবাদি সরকার পতনে তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। আপসহীনতা, ভালো আচরণ এবং প্রতিপক্ষকে কখনোই হেয় না করা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর জীবনাদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা না বলার পরিমিতিবোধের প্রবর্তন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়াও তাঁর আপসহীন ব্যক্তিত্ব এদেশে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন বিনম্রতা, ব্যক্তিত্ব ও আপসহীনতাই বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল। আমরা তাঁর এ বিষয়গুলো ধারণ করতে পারছি কিনা সেটাই মূল বিষয়। তিনি প্রতিপক্ষকে কখনোই হেয় প্রতিপন্ন করতেন না। ব্যক্তিগত জীবনে সব হারানোর পরও হাসিখুশি থাকতেন। বেগম খালেদা জিয়া নোবিপ্রবি’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী ও একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধক। নোবিপ্রবি পরিবার তাঁর এ অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন, সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ও শাখা কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। শিক্ষার্থীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জাহিদ হাসান ও হাসিবুল হাসান।

এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তর ও শাখা প্রধানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শোকসভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *