প্রশাসন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারলে রাজনৈতিক দলের গোসসা কেন: ইবি শিক্ষার্থীর প্রশ্ন

ইবি প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বানচালের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের বিরুদ্ধে। বিষয়টা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একদিকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ধীর গতিতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড চালু রেখেছে, অন্যদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত রাখা তোড়জোড়।

হতাশা ও মনের ক্ষোভ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থীরা লিখেন, ‘প্রশাসন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারলে রাজনৈতিক দলের গোসসা কেন? রাজনৈতিক বলয় থেকে কবে বের হবে? এতগুলো বিভাগের নিয়োগ হাতছাড়া করবে প্রশাসন? জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে আমরা তো নিশ্চয়তা দিতে পারি না। অথচ আমাদের মতো অনেক বিভাগে ২/৩ জন শিক্ষক নিয়ে পাঠদান হচ্ছে। এমনকি এত তীব্র সংকট যে ভিসি স্যার নিজে এসে ক্লাস নিচ্ছে।!’

এদিকে ইউট্যাব সংগঠনটি নিয়োগ স্থগিত রাখতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। ইউট্যাবের সভাপতি মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত রাখতে নীতিগত দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রীতিমতো দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে অনুপস্থিত থেকে ‘অসহযোগতা ও লাপাত্তা’ হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। ওই শিক্ষক হলেন— কমিউনিকেশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। এতে ক্ষুব্ধ নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা। তারা জানান, ‘শুরু হতে না হতেই স্থগিত করছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আসলাম তার কোনো মূল্য দিলো না। সবখানে দলীয় প্রভাব। শুনলাম বিভাগের সভাপতি নাকি বিএনপির নেতা।’

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে ভুগছে জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকট দূর করতে সম্প্রতি তিনটি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পদে দুটি ও প্রভাষক পদে একটি। তবে রোববার সকাল ১০টায় নিয়োগ বোর্ডের নির্ধারিত সময় হলেও বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান উপস্থিত হননি। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্থগিত রাখার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ১০ টায় নিয়োগ বোর্ড ছিল, সভাপতি উপস্থিত না থাকায় পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, আমাকে সরাসরি কেউ চাপ দেয়নি। তবে নিয়োগ বন্ধের জন্য ইউট্যাব চিঠি দিয়েছিল। আজকে যে উপস্থিত হননি তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হবে। এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *