জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ শিক্ষক নিয়ে সমালোচনা যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। ক্যাম্পাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন ঘিরে উৎসব মুখর পরিবেশ নিমিষে ধোঁয়াশায় পরিণতি হয়েছিল প্রশাসনের ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশে। কারণ হিসেবে ভূমিকম্প যে মুখ্য ছিলো না সেটা পরবর্তীতে জানা যায় নিয়োগ বোর্ড নিয়ে সমালোচনা হলে। নভেম্বর মাসের ২১ তারিখ ভূমিকম্পের কারণে ক্যাম্পাস ২৩ নভেম্বর থেকে ১৪ দিনের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন তবে চালু ছিলো অনলাইন ক্লাস। ১৪ দিনের এই ছুটির ভিতর মূল উদ্দেশ্য ছিলো নড়বড়ে ভবন গুলো পর্যবেক্ষণ করে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ, তবে সরজমিনে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা মিলেনি ক্যাম্পাসে। তবে বন্ধের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড যেনো রহস্যের তীব্রতা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বন্ধের মধ্যে নিয়োগ নিয়ে অসম্মতি জানায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক জন সিনিয়র শিক্ষক তবে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তে অনড়। কারণে হিসেবে বলেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক নিয়োগ হচ্ছে, আমি এই নিয়োগ গুলো দিবো বলে মন্তব্য করেন তিনি(উপাচার্য)। নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন অনেকে,আবার কেউ কেউ বলেছে সুষম বণ্টন হয়েছে দুই দলে তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কিছু বললেই পেতে পারে নির্বাচন কমিশনের শোকজ লেটার। এই কারণে যৌক্তিক হওয়া সত্বেও কথা বলতে পারছিলেন না অনেকে।
মিতু রানী রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী, যিনি অনার্সে সিজিপিএ ৩.৯০ এবং মাস্টার্সে ৩.৯২ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তাঁর দুটি গবেষণা প্রবন্ধও রয়েছে। এত মেধাবী শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে সুযোগ না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বহু পরীক্ষার্থী।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা সম্পন্ন করে তৈরি করে তুলতে পারে না , সরকারের উচিত তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া।
এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড.রেজাউল করিম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘নিয়োগ শতভাগ দুনীতি মুক্ত হয়েছে এবং এবিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ বন্ধের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড কি পরিকল্পনার অংশ ছিলো কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘NO comment’. বাকি প্রশ্নগুলোর উত্তরে একই কথা বলেন তিনি।
এবিষয়ে শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন,ফাঁকা ক্যাম্পাসে বোর্ড বসানোর ব্যাপারে তিনি বলেন“ফাঁকা ক্যাম্পাসে নিয়োগ বোর্ড বসানো স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে। নিয়োগ অবশ্যই নীতিমালা অনুযায়ী হওয়া উচিত, এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কিছু প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমার দলের হলেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের মূল্যয়ন ও ২ দলের মধ্যে ভাগাভাগির ব্যাপারে তিনি জানান, “জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা কোথাও মূল্যায়ন পেয়েছে, কোথাও পায়নি—এটা স্বীকার করছি। আর জকসু নির্বাচনের সময় বোর্ড বসানো যদি প্রার্থীদের চাপে রাখার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, সেটিও সমর্থনযোগ্য নয়। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগাভাগির অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত নই, তবে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।”
আমরা সবাইকে মনে রাখতে হবে—শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থই মুখ্য।”
