মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজনীতির মাঠে সাধারণত দলীয় নেতা-কর্মীদেরই ভিড় দেখা যায়। কিন্তু যশোর সদর-৩ আসনে এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক দৃশ্য। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের জন্য রাজপথে নেমেছেন তার স্কুলজীবনের পুরোনো বন্ধুরা। রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠেছে ‘৯১ ব্যাচের’ নিবিড় বন্ধুত্ব।‘সম্প্রীতির বন্ধনে আমরা’—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে এস.এস.সি ১৯৯১ ব্যাচের একদল বন্ধু চষে বেড়াচ্ছেন শহরের অলিগলি। বৃহস্পতিবার রাতভর যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। হাতে ব্যানার-ফেস্টুন আর মুখে বন্ধুকে জয়ী করার প্রত্যয় নিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
প্রচারে অংশ নেওয়া বন্ধুরা জানান, তাদের এই ঐক্যের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং কাজ করছে কয়েক দশকের পুরোনো আবেগ। মজার বিষয় হলো, এই বন্ধুদের অনেকেই এখন পেশাগত প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত। কিন্তু প্রিয় বন্ধু অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনের কথা শুনে তারা দাপ্তরিক ছুটি নিয়ে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাড়ির টানে যশোরে ফিরে এসেছেন।প্রচারণা চলাকালে ১৯৯১ ব্যাচের কয়েকজন সহপাঠী আবেগপ্লুত হয়ে বলেন:”অমিত আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। দল-মত অনেক পরের কথা, আগে তো আমরা সহপাঠী। বন্ধুর প্রতি নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা সাধারণ মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—বন্ধু জয়ী হবে, তারপর আমরা আবার যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাব।”বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারণাকালে দেখা যায়, বন্ধুরা দলবদ্ধভাবে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট তুলে দিচ্ছেন। তারা বিশ্বাস করেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নির্বাচিত হলে যশোরের উন্নয়নে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।নির্বাচনী ডামাডোলে বন্ধুত্বের এমন নজির সাধারণ ভোটারদের মাঝেও বেশ কৌতূহল ও ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এমন সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল।
