‎বিএনপির ব্যানার সরিয়ে ফেললেন রাকসু জিএস আম্মার‎


‎রাবি প্রতিনিধি:
‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ব্যানার খুলে ফেলার ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। 

‎ব্যানার খুলে ফেলার ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক পোস্ট আম্মার জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে আহবান জানিয়েছিলাম। উনি অপসারণ করেননি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিড়ে দিলাম। ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যতোগুলো উপসর্গ যখনই পাবো শিক্ষকদের তখনই বিরোধিতা করবো। শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষার মাথা খেয়ে একেকজনকে পলিটিকাল দালাল বানাইয়া রাখছে।

‎ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, অন্য আরেকটি দল জামায়াতে ইসলামীর জন্যও একই বার্তা তবে তারা ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে এখন পর্যন্ত একটা বিবৃতিও দেয়নি, মিছিল মিটিং করেনি এমনকি তাদের দলীয় পরিচয় এই ক্যাম্পাসে আমি পাইনি এখনও। আপনারা যেকোনো দল করেন, রাজনীতি করেন তবে সেটা ক্যাম্পাসের বাইরে।

‎শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চান কিন্তু এর নেপথ্যে থাকে ভয়াবহ শিক্ষক রাজনীতি তাই এই শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে সবার আগে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

‎এবিষয়ে জিয়া পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, তার এই ঘৃণ্য কাজে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমার আর কোনো ভাষা জানা নায়। তারেক রহমানের আগমন ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ জাতি এখন তার পানে তাকিয়ে মুখিয়ে আছে। এমন একজন চেয়ারম্যান কে অভিনন্দন জানিয়ে আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জিয়া পরিষদের সভাপতি অভিনন্দন জানিয়েছি। তো এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো ক্ষতি হবে? 

‎তিনি বলেন, এসব ছাত্র নামে কলঙ্ক। সে লেখাপড়া বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে। যারা মূলত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল তারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এই জাতীয়তাবাদী দলকে শেষ করতে চায়। তবে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাইনা। ১২ তারিখের পরে দেশ কোন দিকে যাবে সেটার দিকেই তাকিয়ে আছি।

‎এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে কোন কিছুই জানিনা। তবে ফেসবুকে দেখলাম, কেউ যদি ব্যানার লাগায় আবার কেউ যদি সরায় সেক্ষেত্রে কারণ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটছে কিনা এই জিনিসগুলো আমাকে জানতে হবে। যদি কোন কিছু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে সেটা আমরা অবশ্যই দেখবো, সেটা যেই হোক না কেন তার সাথে কথা বলবো।’

‎এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের আম্মার তার ভেরিফাইড ফেজবুক পেজে দুপুর ২টার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ব্যানার খুলে নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *