মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোটের ময়দানে লড়াই ছিল তপ্ত, স্লোজান ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু ব্যালট যুদ্ধের ধুলোবালি উড়তেই দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। যশোর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমাণ করলেন, রাজনীতি মানেই শত্রুতা নয়, বরং জনকল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার এক যৌথ প্ল্যাটফর্ম।নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরপরই তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তাঁর চারজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফোনালাপকে যশোরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘সুস্থ রাজনীতির এক নতুন মাইলফলক’ হিসেবে।
অমিত প্রথমে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে সৌজন্যের সূচনা করেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ করেন: মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), নিজামুদ্দিন অমিত (জাগপা), মো. রাশেদ খান (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি)।ফোনালাপগুলোতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং স্থান পেয়েছে যশোরের মানুষের উন্নয়ন ভাবনা। প্রতিটি প্রতীকের প্রার্থীরাই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে— “পথ ও মত যার যার, যশোর সবার।”
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তারা একে অপরকে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। “গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতিই পারে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য যশোর উপহার দিতে।— অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।সাধারণ ভোটাররা বলছেন, সচরাচর বিজয়ী প্রার্থীরা পরাজিতদের এড়িয়ে চলেন বা দমন-পীড়নের নীতি নেন। সেখানে অমিতের এই ‘আউট অব দ্য বক্স’ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই উদ্যোগ প্রশংসায় ভাসছে।
