মানবিক ছোঁয়ায় মহাকবির ২০২তম জন্মক্ষণ: সাগরদাঁড়িতে ভিন্ন আমেজের শ্রদ্ধাঞ্জলি

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

কপোতাক্ষের তীরে আজ সেই চেনা কোলাহল নেই, নেই মেলার নাগরদোলার শব্দ। তবে মেলার শূন্যতা ছাপিয়ে এক পশলা মানবিকতা আর শুদ্ধ সাহিত্যচর্চায় উদযাপিত হলো মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রথাগত ‘মধুমেলা’ পিছিয়ে গেলেও, আজ রবিবার কবির জন্মতিথিতে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লী সেজেছিল এক স্নিগ্ধ সাজে।এবারের আয়োজনে যশোর জেলা প্রশাসন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কবির জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের এই মহতি উদ্যোগ উপস্থিত সুধীজন ও দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে, যা জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা।সকাল থেকেই কবির স্মৃতিবিজড়িত আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে যশোর জেলা ও কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন। পরে মধুমঞ্চে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’-এর মোড়ক উন্মোচন ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। প্রধান আলোচক হিসেবে ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ মহাকবির বৈপ্লবিক সাহিত্যজীবন নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।প্রতিবছর এই দিনে সাগরদাঁড়ি মেলাঙ্গন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকলেও এবার পরিবেশ ছিল শান্ত। তবে এই নিস্তব্ধতা সাময়িক। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে পুনরায় বর্ণিল আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী ‘মধুমেলা’ অনুষ্ঠিত হবে।অনুষ্ঠানে শুধু আলোচনা নয়, খুদে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ রফিকুল হাসান এবং কেশবপুর থানার ওসি সুকদেব রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *