মৃত্যুর পরও মানবতার সেবায়: মরদেহ দান করলেন জাগরণী চক্রের প্রতিষ্ঠাতা আজাদুল কবির আরজু

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

জীবনভর মানুষের কল্যাণে কাজ করার পর মৃত্যুর পরও আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আজাদুল কবির আরজু। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী, চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে তাঁর মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করা হয়েছে।রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল আলম খানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। মরহুমের স্ত্রী মেরীনা আখতার, ভাই মোস্তফা কামাল ও কন্যা নিবেদিতা নার্গিস পরিবারের পক্ষে এই শোকাবহ কিন্তু গর্বিত প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মো. আজাদুল কবির আরজুর এই মহৎ ত্যাগ ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই যশোর শহরের মুজিব সড়কস্থ জেসিএফ প্রধান কার্যালয়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হলে সেখানে ভিড় জমান সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অঞ্চল ও জোনের প্রতিনিধি ছাড়াও শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন, চরকা পরিবার, সিএসপি, সিএইচপি এবং এনজিও যশোরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।সকাল সাড়ে ৯টায় জেসিএফ কার্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫২টি জেলা থেকে আগত জেসিএফ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে মো. আজাদুল কবির আরজু প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে যশোরের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তবে নিজের মরদেহ দান করার মাধ্যমে তিনি যে ত্যাগের মহিমা দেখিয়ে গেলেন, তা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *