যশোরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ৩৫ প্রার্থী: প্রতীক বরাদ্দের সাথে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে যশোরে। জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে এসব প্রতীক তুলে দেন।তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন ৩৫ জন প্রার্থী। আজ প্রতীক বরাদ্দের দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তাদের দলীয় প্রতীক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ও লটারির ভিত্তিতে বরাদ্দ করা হয়েছে বিভিন্ন সাধারণ প্রতীক।

এক নজরে যশোরের ৬ আসনের লড়াইঃযশোর-১ (শার্শা): নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি), মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী), জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি) ও বখতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন)।যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): সাবিরা সুলতানা (বিএনপি), মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (জামায়াতে ইসলামী), ইদ্রিস আলী (ইসলামী আন্দোলন), ইমরান খান (বাসদ), জহুরুল ইসলাম (বিএনপির স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী), মেহেদী হাসান (স্বতন্ত্র), শামছুল হক (বিএনএফ) এবং রিপন মাহমুদ (এবি পার্টি)।যশোর-৩ (সদর): অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি), আব্দুল কাদের (জামায়াতে ইসলামী), মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), খবির গাজী (জাতীয় পার্টি), নিজামদ্দিন অমিত (জাগপা) ও রাশেদ খান (বাসদ)।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): মতিয়ার রহমান ফারাজী (বিএনপি), গোলাম রসুল (জামায়াতে ইসলামী), এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ (স্বতন্ত্র), বায়েজীদ হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন), মাওলানা আশেক এলাহী (খেলাফত মজলিস), জহুরুল হক (জাতীয় পার্টি) ও সুকৃতি কুমার মন্ডল (বিএমজেপি)।যশোর-৫ (মণিরামপুর): রশীদ আহমাদ (বিএনপি), গাজী এনামুল হক (জামায়াতে ইসলামী), জয়নাল আবেদিন (ইসলামী আন্দোলন), এম এ হালিম (জাতীয় পার্টি) ও শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র)।যশোর-৬ (কেশবপুর): আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি), মুক্তার আলী (জামায়াতে ইসলামী), শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), জি এম হাসান (জাতীয় পার্টি) ও মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি)।

প্রতীক হস্তান্তর শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আজ থেকেই প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রতিটি কর্মকাণ্ড অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে হতে হবে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের ৬টি আসনে মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশাল এই ভোটযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মোট ৮২৪টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রিজাইডিং অফিসারসহ মোট ১৪ হাজার ৮৬১ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।প্রতীক বরাদ্দের পরপরই যশোর শহরসহ প্রতিটি উপজেলার পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *