যশোরের আকাশে-বাতাসে এখন শুধু স্লোগান আর উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত—আজ দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জনসমুদ্রে ভাষণ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে যশোর আজ আক্ষরিক অর্থেই মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে।সকাল থেকেই যশোরের আট উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রাক ও ট্রেনে করে শহরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মানুষের ভিড় এতটাই যে, মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার সড়ক ও অলিগলিতে এখন কেবল মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকায় সজ্জিত হয়ে সমর্থকরা তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি যুগান্তকারী রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর বক্তব্যে নতুন কোনো বার্তা থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই সমাবেশকে যশোরের ইতিহাসে ‘সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক শোডাউন’ হিসেবে দাবি করছেন।
বিশাল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ৫০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির জন্য শতাধিক পুলিশ সদস্যের পোশাকে রয়েছে বডি ক্যামেরা।কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে র্যাবের ৬টি বিশেষ দল।শহরের প্রবেশপথগুলোতে কড়া তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোন দিয়েও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি একনজর দেখা এবং তাঁর দিকনির্দেশনা শোনার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে। মঞ্চে ইতিমধেই স্থানীয় পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখা শুরু করেছেন। সবার দৃষ্টি এখন সেই ক্ষণের দিকে, যখন বিএনপি চেয়ারম্যান মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শুরু করবেন।
যশোরের এই জনসভাকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উদ্দীপনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
