মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোরের রাজনৈতিক ময়দান। দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকালে যশোরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১০-দলীয় জোটের এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করাসহ একগুচ্ছ আধুনিক নির্বাচনী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান যশোর জেলার আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এবং তাদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। মনোনীত প্রার্থীগণ হলেন:যশোর-১ (শার্শা): মাওলানা আজিজুর রহমান।যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা): ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (বিশিষ্ট শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ)।যশোর-৩ (সদর): অধ্যাপক মো. আব্দুল কাদের।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর): অধ্যাপক গোলাম রসুল (যশোর জেলা জামায়াতের আমির)।যশোর-৫ (মণিরামপুর): অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।যশোর-৬ (কেশবপুর): অধ্যাপক মুক্তার আলী।
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে যশোর শহরকে একটি পূর্ণাঙ্গ সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া এখানে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মানোন্নয়ন করা আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করা হবে।” এছাড়া আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী (মুক্তি), আর না মানে গোলামী।”
জনসভায় ১০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং যশোর জেলার স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই জনসভাটি নির্বাচনী আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
