যশোর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার: যশোর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। আজ ১৫ মার্চ (রবিবার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করা হয়।দেশের জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আজ একযোগে ৪২টি জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যশোরের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দেলোয়ার হোসেন খোকনের হাতে।

বিগত বেশ কিছু সময় ধরে জেলা পরিষদের কার্যক্রম আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এতে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কাজে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেওয়ার অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষের। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার কাঠামোর আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হাতে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন খুব শীঘ্রই বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং এরপরই জেলা পরিষদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

দেলোয়ার হোসেন খোকন যশোরের রাজনীতির এক অতি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর কারণে জেলার সব স্তরের মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাঁর এই নিয়োগকে যশোরের স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিয়োগের খবরটি যশোরে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন খোকনকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। যশোরের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক প্রশাসক হিসেবে আসায় জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে:

  • অবকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
  • শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
  • স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: পরিষদের প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি রোধ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ শৃঙ্খলা ফেরানো।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান,”যশোরের মানুষের সেবা করার যে মহান সুযোগ সরকার আমাকে দিয়েছে, আমি তা সততার সঙ্গে পালন করতে চাই। জেলা পরিষদকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, গতিশীল ও সত্যিকারের জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি যশোরের সকল স্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *