যশোরের উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ব্যতিক্রমী ও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা নারীদের ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করতে চায় বা তাঁদের সামর্থ্য নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, তারা আধুনিক দেশ গঠনের উপযোগী নয়।জনসভায় তারেক রহমান কেবল সমালোচনা নয়, বরং ক্ষমতায় গেলে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি ঘোষণা করেন:বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি যোগ্য পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলিকার্ড’ চালু করা হবে।এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি মা-বোনদের হাতে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা পরিবারে ও সমাজে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন।নারীদের শিক্ষিত করতে বেগম জিয়ার নেওয়া অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আরও বড় পরিসরে সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।প্রতিপক্ষকে কড়া আক্রমণ ও ‘একাউন্ট হ্যাক’ খোঁচাএকটি বিশেষ দলের নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “যাঁরা বিদেশি মিডিয়ায় এক কথা বলেন আর ঘরের কোণে বসে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তাঁদের দ্বিমুখী নীতি জনগণের কাছে পরিষ্কার। এখন ধরা খেয়ে তারা ‘একাউন্ট হ্যাকের’ মতো সস্তা অজুহাত দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।”
সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোর উন্নয়নেও এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি প্রধান। তিনি জানান:বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিমদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের পুরোহিত ও ধর্মগুরুদেরও এই রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনা হবে, যাতে ধর্মীয় নেতারা মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করতে পারেন।স্থানীয় অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে তিনি যশোরের বিখ্যাত ফুল চাষকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে এই অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো সচল করে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন তিনি।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ২২টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের উপস্থিত জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোট চুরির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে জনগণকে কেন্দ্রে অতন্দ্র প্রহরী থাকার আহ্বান জানান।
