‎রাকসুর উদ্যোগে রাবিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু ৩০ জানুয়ারি



‎রাবি প্রতিনিধি, মো, আতিকুর রহমান
‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা  উন্নতির জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর উদ্যোগে এবং রাবি মেন্টাল হেলথ ক্লাবের (MHCKU) সহযোগিতায় ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।

‎রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাকসুর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা।


‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,  ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীই কোনো না কোনো হলের সাথে সংযুক্ত, তাই ক্যাম্পেইনটি হলভিত্তিক পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনটি ১৭টি হল ও ১টি ডরমেটরি সহ মোট ১৮টি পয়েন্ট কে ৬ টি ক্লাস্টারে ভাগ করে পরিচালিত হবে।

‎তিনি আরও জানান,  ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্নহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে, মাত্রা দেড় মাসের ব্যবধানে আমরা হারিয়েছি আমাদের দুই বোনকে। গত ১২ নভেম্বর ২০২৫-এ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সোনিয়া সুলতানা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লামিসা নওরীন পুষ্পিতা অকালে ঝরে গেছেন।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশে প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী দেশের ৯২% প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯৪% কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং ‘ট্রিটমেন্ট গ্যাপ’।


‎ক্যাম্পেইনটি দুটি ব্রড সেগমেন্টে পরিচালিত হবে-

‎প্রথম সেগমেন্টে: নির্ধারিত বুথে শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ধাপে বিনামূল্যে মেন্টাল হেলথ চেক-আপ (যেমন ডিপ্রেশন লেভেল, এংজাইটি, স্ট্রেস, হোপলেসনেস, ইন্টারনেট এডিকশন, আত্মহত্যা ঝুঁকি ইত্যাদি) পরিচালিত হবে। এই চেক-আপ কার্যক্রম চলবে সকাল ৯.৩০টা থেকে বিকাল ৪.০০টা পর্যন্ত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন তারা কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন কিনা অথবা মানসিক ঝুঁকিতে আছেন কিনা।

‎দ্বিতীয় সেগমেন্টে: সংশ্লিষ্ট হলের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। ওয়ার্কশপটি চলবে বিকাল ৪.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০টা পর্যন্ত। এই সেশনে মানসিক স্বাস্থ্য কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা কোথায় পাওয়া যায়, কীভাবে আশেপাশের বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের মানসিকভাবে সহায়তা করা যায়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও ট্যাবু দূরীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাইকো-এডুকেশন প্রদান করা হবে।

‎এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে সুবিধাসমূহ পাবেন-

‎নির্ধারিত বুথে দুই ধাপে বিনামূল্যে মেন্টাল হেলথ চেক-আপের সুবিধা, নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগ, মানসিক ঝুঁকি বা সমস্যার ক্ষেত্রে প্রফেশনাল স্ক্রিনিং ও দিকনির্দেশনা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি, ইন্টারঅ্যাকটিভ মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সাপোর্ট সার্ভিস ও রেফারাল সংক্রান্ত তথ্য, বন্ধু ও সহপাঠীদের মানসিকভাবে সহায়তা করার প্রয়োজনীয় স্কিল অর্জনের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা ও ট্যাবু দূরীকরণে সহায়তা, একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও জাজমেন্ট-ফ্রি পরিবেশে নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ।


‎ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও বিচারহীন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের মানসিক সমস্যার কথা বলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *