রাবি প্রতিনিধি,মো. আতিকুর রহমান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ: আমাদের চিন্তার মুক্তি কতদূর’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তন, শিক্ষা ও প্রশাসনের ঐতিহাসিক বৈষম্য এবং বর্তমান সময়ের করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ১৯২৩ সালের ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার মূলে ছিল তীব্র বৈষম্য। তারা উল্লেখ করেন, মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারলেও বৈষম্য সহ্য করতে পারে না, কারণ এটি মানুষের আত্মমর্যাদাকে সরাসরি আঘাত করে। আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিটি লড়াই ছিল এই বৈষম্যের শৃঙ্খল ভাঙার জন্য।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “আমাদের কেবল অতীতের দিকে তাকালে চলবে না, বর্তমানে আমরা মুসলিমদের উন্নতির জন্য কী করছি তা ভাবা জরুরি। বৈষম্য দূর করতে অতি সম্প্রতি আমরা রক্ত দিয়েছি, কিন্তু পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি।” তিনি আরও বলেন, পড়াশোনার প্রতি অনীহার কারণেই আমরা মুক্তবুদ্ধির চর্চায় পিছিয়ে আছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, “জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান কলেজ পর্যন্ত পড়লেই অর্জিত হয়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন মানুষের চিন্তাশক্তিকে ধারালো ও শাণিত করার জন্য। ওহীর বা ধর্মীয় নির্দেশনার বাইরে যে জাগতিক জ্ঞান রয়েছে, তা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা ও প্রশ্ন তোলার মাধ্যমেই মেধার উৎকর্ষ সাধন সম্ভব। এই পৃথিবীতে চিন্তার শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, “মুসলিম সাহিত্য সমাজ ছিল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাজে টিকে থাকার এক ঐতিহাসিক প্রয়াস। এটি আজকের বাংলাদেশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।” তবে গভীর বিশ্লেষণমূলক গবেষণার অভাবে এই আন্দোলনের প্রকৃত তাৎপর্য আজও অনেকের কাছে অস্পষ্ট বলে তিনি মনে করেন।
রাকসু’র বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্করের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আরিফ খান, কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ এবং আইকিউএসি-র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীনসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নয়ন মোরসালিন।
বক্তারা উপসংহারে বলেন, অতীতের সংগঠনগুলো বা ব্যক্তিরা কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অবরুদ্ধ সমাজের জন্য নতুন পথ তৈরি করা। তাদের সেই প্রচেষ্টাকে ছোট করে না দেখে বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে মূল্যায়ন করা উচিত।
