‘শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে’ : জাবি উপাচার্য ।

মোঃ তাহমিদুর রহমান, জাবি প্রতিনিধি

আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর অতিক্রম করে ৫৬ বছরে পদার্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে এ দিবসটি পালন করে। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আহসান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন। এর আগে ১৯৭০-১৯৭১ শিক্ষাবর্ষে ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান-এই চারটি বিভাগে ভর্তিকৃত (প্রথম ব্যাচে) ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. সুরত আলী খান। বিশিষ্ট রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম উপাচার্য হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

আজ সকাল দশটায় পুরাতন কলা ভবনের সামনে মৃৎমঞ্চে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভাষণ দানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। উদ্বোধনী ভাষণের পর শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়ানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রব এবং অন্যান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান।

উপাচার্য তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে আগত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আজকের এ অবস্থান অর্জন করেছে। আমরা বর্তমান প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের একটি পরিবার। উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিলো। ২০২৪ এর পরিবর্তনের পর আমাদের নতুন ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, এর পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটা আমাদের অঙ্গীকার। এ চর্চা অব্যাহত না রাখলে আবারো কোনো অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রাণ দিতে হবে। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্ষেত্রেই আমরা অনৈতিকতার চর্চা দেখতে চাই না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অতিথিগণ অংশগ্রহণ করেন। আনন্দ শোভাযাত্রা সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনরত শহিদগণ এবং সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণের প্রতি শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক, ছাত্র কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, অফিসার সমিতির সভাপতি, কর্মচারী সমিতির সভাপতি, জাকসু ভিপি, জিএস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *