স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভোটের মাঠ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই যশোরের নির্বাচনী মানচিত্রে এলো বড়সড় পরিবর্তন। আকস্মিকভাবে জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে তিন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই নাটকীয় মোড় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের জন্য যেমন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেদের নাম গুটিয়ে নিয়েছেন:যশোর-১ (শার্শা): শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির।যশোর-৩ (সদর): এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা টিএস আয়ুবের পুত্র ফারহান সাজিদ।

তৃণমূলের খবর অনুযায়ী, মাঠ থেকে এই প্রার্থীদের সরে যাওয়া নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ভোটের বিভাজন ঠেকাতে এবং নিজেদের জোট বা দলের মূল প্রার্থীকে নিরঙ্কুশ সুবিধা দিতেই এই ‘কৌশলগত প্রত্যাহার’। বিশেষ করে বিএনপি ঘরানার দুই প্রার্থীর সরে যাওয়াকে দলের হাই-কমান্ডের সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।যশোরের রাজনীতিতে এই তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভোটব্যাংক ও শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের এই অনুপস্থিতি এখন ভোটের পাল্লাকে একদিকে ঝুঁকে দিতে পারে।স্বতন্ত্র প্রার্থীরা না থাকায় ভোটারদের ভোট এখন আর একাধিক মেরুতে ভাগ হবে না।দলীয় প্রতীকের প্রার্থীরা এখন বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারবেন।যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিধি মেনেই তিন প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী ব্যালট পেপারে তাদের আর কোনো উপস্থিতি থাকছে না।স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই প্রস্থান যশোরের নির্বাচনী লড়াইকে এখন অনেকটা ‘একপাক্ষিক’ না কি ‘দ্বিমুখী’ লড়াইয়ে রূপ দেয়—সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।