স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত লড়াই থেকে ছিটকে যেতে পারেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী। আজ শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক আপিল শুনানিতে তার প্রার্থিতা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল ইসলামের স্ত্রী সাবিরা সুলতানা মুন্নী। ২০১১ সালে ঢাকা থেকে তার স্বামী অপহৃত ও নিহত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলীয় মনোনয়ন পেলেও স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণে ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার থাকায় তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে।
সাবিরা মুন্নীর প্রার্থিতা গ্রহণের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জহরুল ইসলাম। শুক্রবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দীর্ঘক্ষণ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে কমিশন তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে কিছুক্ষণ পরেই শুনানির রায় ঘোষণা করে সাবিরা মুন্নীর প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়।মুন্নীর প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় যশোর-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঝিকরগাছা ও চৌগাছা এলাকার তৃণমূল বিএনপিতে এই খবর পৌঁছানোর পর নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের একটি অংশ মনে করছে, আইনি লড়াইয়ে তিনি ফিরতে না পারলে আসনটিতে বিএনপির জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে অন্য একটি অংশ এই সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহরুল ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাবিরা সুলতানা মুন্নী উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আদালতের স্থগিতাদেশ পেলে তিনি পুনরায় নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন। অন্যথায়, এই আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেল।
