বাকৃবিতে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাকৃবি প্রতিনিধি

গণভোট বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ও ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহযোগী মনির হায়দার। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( জাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আব্দুর রহমান সরকার, বাকৃবি রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য (ইউজিসি) অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, জুলাই যোদ্ধা এবং ছাত্র প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, হ্যাঁ ভোটের পক্ষে মত দিলে রাষ্ট্রে প্রকৃত জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিপূর্ণ সংস্কারের পথ সুগম হবে। জুলাই সনদে রাষ্ট্র কাঠামো সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু সংযুক্ত রয়েছে। ফলে এই সনদকে সমর্থন করতে হলে আমাদের হ্যাঁ ভোট দিতেই হবে। বিপরীতে, না ভোট দিলে এসব সংস্কারের কোনো সম্ভাবনাই বাস্তবায়িত হবে না। সুস্থ মস্তিষ্কে, গভীরভাবে চিন্তা করেই জনগণকে রায় দিতে হবে। গণভোটের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিস্তৃতভাবে প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এ আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবর্তনের পতাকা হাতে নিয়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াবো—যে বাংলাদেশ হবে দীর্ঘমেয়াদে সুখী, সমৃদ্ধ ও সত্যিকার অর্থে স্বাধীন।

মনির হায়দার বলেন, প্রফেসর ডঃ ইউনুসের সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা হাতে নেন। এ সময় বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিশন ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। কারণ মূল ব্যাধিটাই সংবিধানের ভেতরে। সুতরাং এই সংবিধান সংস্কার না করা পর্যন্ত যতই আমরা আন্দোলন করতে থাকি কোন লাভ হবে না।

সবগুলো কমিশন থেকে প্রায় এক হাজারের মতো সুপারিশ এসেছিল যার মধ্য থেকে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ টি সুপারিশ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার প্রথম পদক্ষেপ হবে একটা গণভোট করা।

অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে যে গণভোটে মোট কয়টি প্রশ্ন এসেছে। কেউ বলে ১টি, কেউ বলে ৪টি, কেউ বলে ৪৮ টি। জুলাই চার্টার এর মোট সুপারিশ ৮৪ টি এর মধ্যে সংবিধান বিষয়ক সুপারিশ ৪৮ টি। এই ৪৮টি সুপারিশ কে ৪ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে যেগুলো ব্যালটে থাকবে। এখানে ৪টি ক্যাটাগরিতে ৪৮ টি সুপারিশ; কিন্তু প্রশ্ন ১ টিই।

এখানে আপনি যদি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে হয়ে থাকেন তাহলে হ্যাঁ, বিপক্ষে হলে না। কারণ এর প্রত্যেকটি সুপারিশ জুলাই অভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য দেওয়ার জন্য। আপনি যদি এতে
না করেন তাহলে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ। আমরা যদি শহীদদের জীবনের বিনিময়ে কিছু দিতে চাই, আমাদের সামনে আর কোন অপশন নেই; এতে নিরপেক্ষও থাকা যাবে না, না ও করা যাবে না।

অনেকেই বলতে পারে এখানে আমি ভোট দিচ্ছি আমি চাইলেই বিরুদ্ধে অবস্থান করতে পারি। আপনি অবশ্যই পারেন কিন্তু এর দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হবে আপনি জুলাই অভ্যুত্থানে বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *