মোঃ তাহমিদুর রহমান, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হিম উৎসবের শেষ রাতে পালাগানের একটি পরিবেশনায় পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাসের অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কুরআন ও কালচারাল স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সূরা আন-নাসের ভুল ব্যাখ্যা ও ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ আল মাহাদীর সঞ্চালনায় বক্তারা সূরা নাস এর তাফসীর ও নাজিলের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
শুরুতে সূরা নাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন দাওয়াতুল হক একাডেমির পরিচালক মওলানা আকরাম। তিনি বলেন, সূরা নাস এমন একটি সূরা যে সূরা দোয়া হিসেবে কাজ করে। সকল প্রকার অনিষ্টকারীদের থেকে মুক্তি চাওয়া হয় এ সূরার মাধ্যমে। কিন্তু গতকাল হিম উৎসবে একজন বাউল এই সূরাকে নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং ভুল তেলাওয়াত করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
এরপর অনুষ্ঠানের মূল আলোচক সাভার বাস স্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব শায়েখ ইয়াহিয়া ত্বকী আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস কুরআনের অংশ। শয়তানের ফেতনা থেকে বাঁচতে মহান আল্লাহর নিকট এ দুটি সূরার মাধ্যমে দোয়া চাওয়া হয়। কিন্তু, গতকাল বাউল সূরা নাসের যে অর্থ বলেছেন, তা সম্পূর্ণ কুরআন অবমাননার শামিল। এর প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামিক গান পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল (৬ ফেব্রুয়ারি ) রাতে ছবি চত্বরে চলমান পালাগানের একটি অংশে নারী ও পুরুষের গুণাবলি নিয়ে গানে গানে আলোচনা হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় পুরুষ বাউল শিল্পী কুরআনের সর্বশেষ সূরা সূরা নাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সূরাটির কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করেন—“পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি, তত বাঁচবি।” এরপর তিনি নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করে দর্শকদের নাচের আহ্বান জানান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালে হিম উৎসবের আয়োজকেরা তাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
