মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ
যশোরের মাটি ও মানুষের প্রিয় মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল কবির আরজু আর নেই। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি ছিলেন লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কারিগর। শনিবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করা এই মহান মানুষটি শৈশব থেকেই ছিলেন সৃজনশীল ও মানবিক।১৯৭১ সালে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন এবং ঠাঁই হয় অন্ধকার কারাগারে। ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হওয়ার পর তিনি বিজয়ী বেশে কারামুক্ত হন।যুদ্ধের ক্ষত মুছে সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ১৯৭৫ সালে বন্ধুদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’। সমাজের অবহেলিত মানুষের শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর নেওয়া উদ্যোগ আজ অর্ধশতাব্দী পার করেছে।

আজাদুল কবির আরজুর মৃত্যুটি যেন এক সার্থক জীবনের শেষ অঙ্ক। গত ৭ জানুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণ জয়ন্তী। নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের এই বিশাল অর্জন প্রত্যক্ষ করার মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।শনিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করেন।আজাদুল কবির আরজু কেবল একজন এনজিও ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন যশোরের প্রগতিশীল চিন্তা ও মানবিক আন্দোলনের এক আলোকবর্তিকা। তাঁর এই প্রয়াণ দেশের উন্নয়ন সেক্টরে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।